মোঃ ইব্রাহিম হোসেন: নির্বাহী সম্পাদক- আজ ১১ অক্টোবর ২০১৭ রোজ বুধবার সকাল থেকে দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মোতাহার হোসেন মেল্লা ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খন্দকার শামছুল হক রেজার নেতৃত্বে কক্সবাজার উখিয়া অসহায় নির্জাতিত রোহিঙ্গা শিবিরে মাঝে এই ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সীমান্ত পুলিশের ১২ সদস্য নিহত হয়। ওই হামলার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের দায়ী করে আসছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।

মিয়ানমার সরকারের উস্কানিতে সে দেশের সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠিকর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর মানবিক নির্যাতন, খুন ও অগ্নিসংযোগ এবং গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৮ থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমারে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে, বিশেষ করে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও বর্তমান তথাকথিত মানবতাবাদী নেত্রী অং সান সুচি’র তথাকথিত গণতান্ত্রীক সরকারের অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমান প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গণহত্যা থেকে নারী-শিশু, আবাল-বৃদ্ধ বনিতা কেহ রেহাই পাচ্ছে না।

রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও কুশল বিনিময়ের সময় তাদের সকল সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন রোহিঙ্গারা। তাদের কথার জবাবে, কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দ বলেন আমরা আপনাদের পাশে সবসময় আছি থাকবো আর ও বলেন মমতাময়ী মা জনোনেত্রী শেখ হাসিনা সবসময় আপনাদের পাশে আছেন।আপনাদের সকল সমস্যার কথা তিনি জানেন। তার পর ও আমরা যে সব নেতৃবৃন্দ আপনাদের কাছে এসেছি মমতাময়ী নেএীর কাছে সমস্যার কথা গুলি তুলে ধরবো।

সাংবাদিক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের ত্রাণ বিতরণ ও তাদের নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কি এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মোতাহার হোসেন মেল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত কৃষকরত্ন/দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা, সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের ভয়াবহ নির্যাতনে আশ্রয়হীন ৬ লক্ষ্যাধিক এরও বেশী রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বকে। সারা বিশ্বেই তাঁর নাম আলোচিত হচ্ছে ‘‘বিশ্ব মানবতার বিবেক’’ হিসেবে। জাতিসংঘের অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাঁর এই মানবিক দৃষ্টান্তের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ়চেতা মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাঁকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে।যিনি বিশ্ব মিডিয়াতে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে পরিচয় পেয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দেয়া পাঁচ দফা প্রস্তাব সারা দুনিয়ায় সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। সে কারণে বিশ্ব জনমতের চাপে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর আউং সান সুচির একজন মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছে। বৈশ্বিক চাপের মুখে মিয়ানমারের মন্ত্রীর নরম সুর আর ওই দেশের রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের অবস্থানগত পরিবর্তন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের পরিচয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘসহ সারাবিশ্বের নেতাদের বোঝাতে পেরেছেন এটা গণহত্যা, জাতিগত নিধন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দুটি দেশ ছাড়া সব দেশই এটাকে সমর্থন করেছে। এ দুটি দেশ সরাসরি সমর্থন না করলেও তাদের একটা সহানুভূতির সুর দেখা গেছে।

নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সংগ্রামি সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মোতাহার হোসেন মেল্লা, কেন্দ্রীয় কমিটির বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা, কৃষিবিদ বাবু সমীর চন্দ্র চন্দ্, সাংগঠনিক সম্পাদক, আতিকুল হক আতিক, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, মহিলা এমপি এড. উম্মে কুলছুম স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক, বিশ্বনাথ সরকার বিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক, কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট, দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম পানু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাক্ষ গুলশান আরা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম দুলাল, প্রচার ও প্রকাশনা একেএম আজম খান’সহ প্রমুখ।

Comments

comments