মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, নির্বাহী সম্পাদকঃ
সবাইকে কাঁদিয়ে দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘শুয়া চান পাখি’র গানের রাজা বারী সিদ্দিকী। তার মৃত্যুর খবর আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটেছে।
এই তো সেদিনে অক্টোবর ২০১৭ইং এর ২৮ তারিখ বাসাবো বালুর মাঠে ঝলক সামাজিক সংঠগনের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হাজার হাজার স্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে ‘শুয়া চান পাখি’ ‘পুবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’ সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন।
সেই অনুষ্ঠানে তিনি তার প্রিয় পুত্রকেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন এবং এক পর্যায়ে বলেছিলেন, আমি আজ সত্যিই মুগ্ধ, অবাক এবং বিস্মিত কারণ, হাজার হাজার দর্শক, শ্রোতা আমার সামনে বসে আছে, আমি যখন গান গাইছিলাম তখন উপলব্ধি করতে পারিনি। কারণ, তারা এমন নিরব ও আবেগের মধ্যে ছিলেন যে, গানগুলো যেন হৃদয় দিয়ে ধারণ করছেন।
আমি যদি বেচে থাকি আবারও আপনাদের এখানে এসে গান গাইতে পারলে ধন্য হবো। তিনি আর ফিরে আসবেন না। নেত্রকোণায় সেই চিরপরিচিত কাঁদা মাটির সাথে আজীবন বসবাস করবেন। কিন্তু তার সুর আর গান আজীবন লাখো কোটি ভক্তদের হৃদয়কে স্পর্শ করবে। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল সেই দিন যখন জনপ্রিয় এই সঙ্গীত শিল্পী মঞ্চের দিকে আসছিলেন তখন মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে আমি তার নাম ঘোষনা করছিলাম এবং তার পিছনে দাঁড়িয়ে একজন শ্রোতা হয়ে তার সকল জনপ্রিয় গান মন্ত্রমুদ্ধের মতো শুনছিলাম। তার গান এখনো আমার কানে বাজছে। হয়তো আমার মতো লক্ষ কোটি হৃদয় গানের সুর শব্দ ঘুরে বেড়াচ্ছে। গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে শায়িত আছে প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ। তিনি ১৯৯৯ সালে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে বারী সিদ্দিকীকে গান গাওয়ার সুযোগ করে দেন।
তারপর থেকে এই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীর আর পিছনের দিক তাকাতে হয়নি। গুনী নন্দিত এই শিল্পী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোণা জেলার এক সঙ্গীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১২ বছর বয়সেই ওস্তাদ গোপাল দত্তের কাছে তার আনুষ্ঠানিত তালিম শুরু হয়। এরপর ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্না লাল ঘোষসহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্যিধ্য লাভ করেন তিনি। বাঁশীর প্রতিও তার অন্যরকম প্রেম ছিল। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুণে গিয়ে পন্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। মঞ্চে একদিকে বাশীর সুর অন্যদিকে কণ্ঠের যাদুর ছোঁয়া, ভক্তদের হৃদয় কেড়ে নেন বারী সিদ্দিকী। মৃত্যুর শেষ দিকে তিনি অত্যন্ত আবেগময়ী কথা বলতেন। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে বার বার আলিঙ্গন করতেন।
সেই কালজয়ী গানের গায়ক গীতিকার ও বংশীবাদক আর কোন দিন গান গাইবেন না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করছি আল্লাহ পাক যেন তাকে জান্নাত দান করেন।

Comments

comments